রাজধানীর আট অঞ্চলে চলবে ৮ রঙের ই-রিকশা
আপলোড সময় :
০২-১১-২০২৬ ০৫:২৪:৩৩ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
০২-১১-২০২৬ ০৫:২৪:৩৩ অপরাহ্ন
ফাইল ছবি
নিজস্ব প্রতিনিধি, বাংলা রিলিজ: রাজধানী ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকাকে আটটি জোনে ভাগ করে ৮ রঙের ব্যাটারিচালিত ই-রিকশার নিবন্ধন দেবে সরকার। দুই সিটি করপোরেশনের প্রতিটিতে চারটি করে জোন থাকবে। প্রতিটি জোনের ই-রিকশার রং হবে আলাদা। ফলে এক জোনের ই-রিকশা অন্য জোনে চলাচল করতে পারবে না।
আজ সোমবার (২ নভেম্বর) থেকে নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। একজনের নামে সর্বোচ্চ পাঁচটি ই-রিকশা নিবন্ধন করা যাবে।
যানজটের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রতিটি জোনে কতটি ই-রিকশা চলতে পারবে, তা ট্রাফিক পুলিশ ও দুই সিটি করপোরেশন আলোচনা করে নির্ধারণ করবে। তবে ই-রিকশার মোট সংখ্যার ওপর এখনও কোনো সীমা নির্ধারণ করা হয়নি।
ই-রিকশার ভাড়া নিবন্ধন কার্যক্রম শুরুর পর নির্ধারণ করা হবে। যানবাহনের মালিক, ট্রাফিক কর্তৃপক্ষ ও সিটি করপোরেশনের সঙ্গে আলোচনা করে কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া ঠিক করা হবে।
নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, ই-রিকশার সর্বোচ্চ গতিসীমা হবে ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার। হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো সংবেদনশীল এলাকায় এ গতি ১৫ কিলোমিটারের বেশি হতে পারবে না।
প্রতিটি রিকশায় স্পিডোমিটার ও কিউআর কোডযুক্ত নিবন্ধন নম্বর থাকতে হবে। রিকশাগুলো বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নির্ধারিত মানদণ্ডে তৈরি হতে হবে।
জাতীয় মহাসড়ক, এক্সপ্রেসওয়ে, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, প্রধান বাস চলাচলের সড়ক ও করিডোরে ই-রিকশা চলাচল করতে পারবে না। প্রশাসন যেসব সড়কে চলাচল নিষিদ্ধ করবে, সেখানেও এসব যান চলবে না।
কোন এলাকায় কতটি ই-রিকশা চলবে সেটি সিটি করপোরেশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করবে।
নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, দুই যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশার নিবন্ধন ফি আট হাজার টাকা। ফিটনেস পরীক্ষা শেষে এক বছর পর নবায়ন করতে ফি দিতে হবে চার হাজার টাকা। চার যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশার নিবন্ধন ফি ১০ হাজার টাকা। এক বছর পর নবায়ন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০০ টাকা।
বিধিমালা অনুযায়ী, একটি ই-রিকশা সর্বোচ্চ ১২ বছর চলাচল করতে পারবে।
এছাড়া সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের দেওয়া কিউআর কোডযুক্ত ফিটনেস সনদ প্রদর্শনের জন্য অতিরিক্ত এক হাজার টাকা ফি দিতে হবে।
চার্জিং স্টেশনে সৌরবিদ্যুতের ব্যবস্থা রাখতে হবে। প্রাথমিকভাবে চালকদের পরিচয়পত্র দেওয়া হবে, তবে সেটি ড্রাইভিং লাইসেন্স হিসেবে গণ্য হবে না। পরবর্তী সময়ে পর্যায়ক্রমে তাদের ড্রাইভিং লাইসেন্সের আওতায় আনা হবে।
বিধিমালায় ই-রিকশা চলাচলের ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি কাজকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে নিবন্ধন ছাড়া ই-রিকশা চালানো, অনুমোদিত গতিসীমা অতিক্রম করা, নির্ধারিত সংখ্যার চেয়ে বেশি যাত্রী বহন, অননুমোদিত ব্যাটারি ব্যবহার এবং মোটর বা গাড়ির কাঠামোয় অননুমোদিত পরিবর্তন আনা।
এছাড়া নিষিদ্ধ এলাকায় চলাচল, বেপরোয়া গাড়ি চালানো, যাত্রী ছাড়া মালামাল বহন, ট্রাফিক সংকেত অমান্য করা এবং দুর্ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়াও অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Bangla Release 24
কমেন্ট বক্স